শহীদনূর আহমেদ::
টানা বৃষ্টিপাতের পর অবশেষে বৃহস্পতিবার রোদের দেখা মিললেও সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। বৃষ্টিপাত কমে এলেও উজানের ঢলে নদী ও হাওরের পানি বেড়ে চলায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। ফলে জেলার প্রায় সব হাওরেই পাকা ও আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে রয়েছে।
বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত জেলায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি না হলেও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে হাওরাঞ্চলের পানি ক্রমাগত বাড়ছে। এতে নিচু এলাকার ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা। অনেক স্থানে শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে; হাজার টাকা মজুরি দিয়েও শ্রমিক মিলছে না, পাশাপাশি ধান কাটার যন্ত্রও অপ্রতুল। কৃষকরা জানান, কোমর কিংবা গলা পানিতে নেমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে তাদের। তবুও অনেক ক্ষেতেই চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে সারা বছরের একমাত্র ফসল। এতে চরম হতাশা ও দিশেহারা অবস্থায় পড়েছেন তারা।
সদর উপজেলার ওয়েজখালি এলাকার বর্গাচাষি শাহজাহান জানান, শিয়ালমারা হাওরে ২০ বিঘা জমিতে চাষ করেছিলেন তিনি। অতিবৃষ্টিতে ইতোমধ্যে ১৫ বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়েছে। অবশিষ্ট ৫ বিঘার ধানও পানিতে দাঁড়িয়ে থেকে শ্রমিক দিয়ে ভাগাভাগির ভিত্তিতে কাটতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, “সব শেষ হয়ে গেছে। যা আছে, তা দিয়ে জমির মালিককে দেবো, না নিজে খাবো - কিছুই বুঝতে পারছি না। সরকার সহযোগিতা না করলে বাঁচা কঠিন।” শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাখিমারা হাওরের কৃষক জাবেদ আলী বলেন, ২০ বিঘা জমির মধ্যে ১২ বিঘার ধান কাটতে পারলেও বৃষ্টির কারণে তা শুকাতে পারিনি। এতে প্রায় ২০০ বস্তা ধানে অঙ্কুর (চারা) গজিয়েছে। তিনি বলেন, যা কেটেছি, তাও রক্ষা করতে পারিনি। অধিকাংশ ধানই নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের মতো প্রায় সবারই একই অবস্থা।
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহ¯পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এ সময়ে সুরমা নদীর পানি ১৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিতে নদীর পানি বেড়েছিল ৫৬ সেন্টিমিটার। তবে গত সোমবার রাতের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। ওইদিন মৌসুমের সর্বোচ্চ ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়, যা হাওরের বোরো ধানের বড় অংশ তলিয়ে দেয়।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী পওর-২ মো. ইমদাদুল হক জানান, আগামী তিন দিনে উজানে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় আগাম বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে পাহাড়ি ঢলে ফসল রক্ষাবাঁধে পানির চাপ সৃষ্টি হওয়ায় বাঁধে সতর্কতা বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন সিলেট বিভাগের অতিরক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাওসার আলম।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাওরে ১৩ হাজার ৫৭ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৭ হেক্টর। এর আগে জলাবদ্ধতায় ৩ হাজার ২০০ হেক্টর ক্ষতির কথা জানানো হয়েছিল। তবে হাওর আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ এ হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, বাস্তবে প্রায় অর্ধেক ধানই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত লক্ষাধিক হেক্টর জমির ফসল
- আপলোড সময় : ০১-০৫-২০২৬ ১২:৪৬:৫২ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০১-০৫-২০২৬ ১২:৫১:৪৪ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ